Friday, November 17, 2023

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...




ঢাকা শহর থেকে যে কয়েকটি জেলা অতি নিকটে তার মধ্যে আমাদের গাজীপুর জেলা অন্যতম। এই গাজীপুর জেলাতেই ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক অবস্থিত। গাছে গাছে ঢাকা এ উদ্যানের প্রতিটি জায়গাই দৃষ্টিনন্দন নজরকাড়া। সারি সারি বৃক্ষের মাঝে পায়ে চলা পথ। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য আছে বেঞ্চ কিংবা ছাউনি। বনের মাঝে কোথাও কোথাও চোখে পড়বে ধানক্ষেত। কোথাও আবার পুকুর কিংবা ছোট আকারের লেক।একসময় ভাওয়াল উদ্যানে পাওয়া যেত ব্লাক প্যান্থার, চিতা বাঘ, ময়ূর, হাতি। এসব এখন ইতিহাস। ক্রমাগত বন উজাড়ের ফলে দিনে দিনে এর পরিধি কমে আসায় এ বন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে নানান বন্যপ্রাণী। তবে বাংলাদেশ সরকার এ বনকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে। 
ঢাকার গাড়ি ঘোড়া দেখে দেখে যদি একটু ক্লান্ত হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে জাতীয় উদ্যানে আছে ঘন বন আর ঝোপ জঙ্গল। শাল বা গজারি, এই উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ। এসব ছাড়াও ২২০ প্রজাতির গাছপালা আছে এখানে। বনের ভেতর দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আছে রাস্তা ও হাইকিং ট্রেইল যেখানে নিরিবিলি নিজের মত করে হেঁটে দেখতে পাবেন একেকটি গাছ। ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও, আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে এটি স্বীকৃতি পায়। জলে ভাসা পদ্ম দেখতে ছুটে যেতে পারেন এইখানে। উদ্যানের বিশালাকার কয়েকটি লেক, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পদ্মপুকুর। এই লেকটিতে পদ্মফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য হৃদয়কাড়া। সেই সাথে অরণ্যের গাঢ় সবুজে জলের সমাহার এই উদ্যানের সৌন্দর্যকে করেছে অনন্য। জাতীয় উদ্যান নিজ মনে ঘুরে বেড়ানোর মত আনন্দই অন্য রকম লেকগুলোতে নৌকায় ঘুরতে পারবেন, আবার ইচ্ছে করলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতেও পারবেন। সেই ব্যবস্থাও আছে, যদিও সেজন্য একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ গুনতে হবে আপনাকে। ঘুরতে আসা সকলের জন্য আরও আছে, প্রজাপতি বাগান, যেখানে দেখতে পারবেন নানা প্রজাতির রঙ বেরঙের প্রজাপতি! দু-একটা প্রজাপতি যদি আপনার কাঁধে নাই বসে, তাহলে এই ট্যুর যেন বৃথা! শুধু প্রজাপতি দেখেই কিন্তু শেষ নয়। আছে কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র যেখানে দেখা মিলবে সব বয়সী কচ্ছপদের। সাথে আছে মিনি এক চিড়িয়াখানা। সমস্ত উদ্যানটা এক সাথে এক সময়ে দেখতে চাইলে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান সাধারণত খোলা থাকে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। উদ্যানে প্রবেশ করতে আপনাকে দিতে হবে মাত্র ১০ টাকা। সাথে পাচ্ছেন নিরাপদে গাড়ি রাখার সুবিধা। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ঘুরে যদি সময় থাকে ঘুরে আসতে পারেন, ভাওয়াল রাজবাড়ি থেকে। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে কেবল ১৫ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি। অতীতের পাতায় একটু সময় কাটিয়ে আসতে ঘুরে দেখা জরুরী এই জমিদার বাড়ি। বিশাল এই জমিদার বাড়ি আসলেই যেন এক গোলক ধাঁধা। ঘুরতে ঘুরতে কখন যে হারিয়ে যাবেন। যাইহোক জাতীয় উদ্যানের বিষয়ে ফিরে আসি।
পৃথিবীর অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের আদলে ৫০২২ হেক্টর জমিতে ১৯৭৩ সালে এ উদ্যান সরকারিভাবে গড়ে তোলা হয়। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের মূল উদ্ভিদ হলো শাল। প্রায় ২২০ প্রজাতির গাছপালা আছে এ বনে। এর মধ্যে ৪৩ প্রজাতির বিভিন্ন রকম গাছ, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৩ প্রজাতির পাম, ২৭ প্রজাতির ঘাস, ২৪ প্রজাতির লতা, ১০৪ প্রজাতির ঔষধি গাছ। জীব বৈচিত্র্যেরও কমতি নেই এ বনে। প্রায় ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির উভচর প্রাণীও রয়েছে এ বনে। গজারি বৃক্ষের আধিক্যের কারণে অনেকের কাছে এটি ভাওয়ালের গজারির গড় হিসাবেও পরিচিত। প্রায় ৫০২২ হেক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি লাভ করে। উদ্যানের ২২১ প্রজাতির গাছের মধ্যে রয়েছে ৪৩ প্রজাতির বৃক্ষ, ১৯ প্রজাতির গুল্ম, ৩ প্রজাতির পাম, ২৭ প্রজাতির ঘাস, ২৪ প্রজাতির লতা ও ১০৪ প্রজাতির ঔষধি গাছ। এছাড়াও রয়েছে ৬৪ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী যাদের মধ্যে ১৩ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৯ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫ প্রজাতির পাখি ও উভচর প্রাণী অন্তর্ভুক্ত। প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রে পরিপূর্ণ এই উদ্যানে ছুটির দিনে অনেকে পিকনিক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। ভাওয়াল গড়ের ৩ নাম্বার গেট দিয়ে প্রবেশ করলে প্রথমেই টেরাকোটায় মোড়ে প্রবেশ দ্বারের দুটি হাতির ভাস্কর্য নজরে পড়বে। উদ্যানের ভেতরে রয়েছে ৩১ টি পিকনিক স্পট, ১৯ টি চমৎকার কটেজ, অত্যাধুনিক রেস্ট হাউজ, প্রজাপতি বাগান, কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র ও শিশুপার্ক। উদ্যানের সারি সারি বৃক্ষের মাঝে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য রয়েছে বেঞ্চ বা ছাউনি। বিস্তৃত এই বনের মাঝে আরো চোখে পড়বে সবুজ ধানক্ষেত, পুকুর বা ছোট লেক। লেকের জলে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সাথে সাথে পুরো উদ্যান দেখার জন্য রয়েছে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার।

ঢাকা মহাখালী থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে ও গাজীপুর থেকে মাত্র ৪.৩ কিলোমিটার দূরে ন্যাশনাল পার্কটি অবস্থিত।ঢাকার মহাখালী থেকে সম্রাট, অন্যন্যা,উজানভাটি এবং প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন সহ কিশোরগঞ্জ, চালাক চার, ময়মনসিংহগামী যেকোনো বাসে চড়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ফটকের সামনেই নামা যায়। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। প্রাইভেট কার কিংবা মাইক্রোবাস নিয়ে প্রবেশ করতে লাগবে ৩০ টাকা আর মিনি বাসের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। 


ভাড়া ও প্রবেশমূল্য
সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্থ পর্যন্ত ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করা যায়। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। প্রবেশ মূল্যের সাথে শিশু পার্ক, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা এবং পাবলিক টয়লেটের চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা বাসে নিয়ে প্রবেশ করতে চাইলে যথাক্রমে ৬০, ১০০ ও ২০০ টাকা প্রদান করতে হয়।

যোগাযোগ
পিকনিক স্পট বা রেস্ট হাউজ ভাড়া নেওয়ার জন্য বন বিভাগের মহাখালি কার্যালয় থেকে অগ্রিম বুকিং দিতে হয়। এছাড়া ভাওয়াল গড় থেকেই সামান্য দূরে অবস্থিত রাজেন্দ্রপুর জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কার্যালয় থেকেও নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের বুকিং নেওয়া যায়।
 মোবাইল: 01781-733000, 01713-575055

কিভাবে যাবেন
গাজীপুর সদর থেকে ভাওয়াল গজারির গড় অর্থাৎ ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। জয়দেবপুর চৌরাস্তা পার হয়ে একটু সামনে এগোলেই হাতের ডান দিকে ভাওয়াল গড়ের প্রধান প্রবেশ পথ নজরে পড়বে। ঢাকা থেকে নিজস্ব গাড়ীতে অথবা মহাখালি, বিমানবন্দর বা রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে দিয়ে ময়মনসিংহগামী যেকোন বাসে ভাওয়াল উদ্যানে যেতে পারবেন। আবার গুলিস্থান থেকে প্রভাতি বা বনশ্রী পরিবহনের বাসে উঠে ন্যাশনাল পার্কের ৩ নাম্বার গেটে নামার কথা বললে সরাসরি ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রধান গেটে নামতে পারবেন। বাস ভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা।


কোথায় থাকবেন
ঢাকা থেকে ভাওয়াল উদ্যানে সারাদিন ঘুরে বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসা যায়। এছাড়া রাতে থাকার জন্য ভাওয়াল গজারি গড়ের কাছে আছে সারাহ, সোহাগ পল্লী, স্প্রিং ভ্যালী, ছুটি, নক্ষত্রবাড়ি এবং জল ও জঙ্গলের কাব্যের মতো বেশ কিছু রিসোর্ট। তবে রিসোর্টগুলোতে যেতে চাইলে আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখা ভাল। এছাড়া গাজীপুরে সাধারন মানের অসংখ্য হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন
ভাওয়াল গড়ের ভিতরে হালকা চা ও নাস্তা খাওয়ার ছোট টঙ্গের দোকান ও ক্যান্টিন রয়েছে। তবে পিকনিক বা কোনও অনুষ্ঠানে বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে কটেজে রানা-বান্না করার সুযোগ আছে।      

কিছু সতর্কতা
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শুধু এক বা দুইজন না গিয়ে গ্রুপ করে ভাওয়াল গড়ে ঘুরতে যাওয়া ভালো।
ভাওয়াল ন্যাশনাল উদ্যানের কটেজে রাত্রিযাপনের অনুমতি নেই।
উদ্যানের ভিতরের লেকে মাছ ধরা ও পাখি শিকার করার ব্যাপারে বিধি নিষেধ আছে।
উদ্যানের সিকিউরিটি এলাকার বাইরে যাওয়া বিপদজনক।
উদ্যানের ভিতর মাইক বা উচ্চ শব্দ তৈরি করা যেকোন বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষেধ।
বনের ভিতরে হাটার সময় সাথে সান গ্লাস, টুপি, পানির বোতল ও এন্টিসেপটিক ক্রিম সাথে রাখুন।

গাজীপুরের অন্যন্য দর্শনীয় স্থান

গাজীপুরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে নুহাশ পল্লী, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও রাজেন্দ্র ইকো পার্ক উল্লেখযোগ্য।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে রাজেন্দ্র ইকো পার্ক —এর দূরত্ব ১২ কি.মি, নুহাশ পল্লী ১১ কি.মি. এবং বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ১০ কি.মি। 

 যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। আপনাদের সুবিধার জন্যে যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়েছে। তবে অবশ্যই এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। 
কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। এই দৃষ্টিনন্দন জাতীয় উদ্যান অবহেলায় আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এর সৌন্দর্য নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করুন।

Thursday, November 16, 2023

পূর্বাহ্নে সূর্যাদয়ের সময় এখনো অনেকটা বাকি

পূর্বাহ্নে সূর্যাদয়ের সময় এখনো অনেকটা বাকি

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

সোনালি সন্ধ্যা 





পূর্বাহ্নে সূর্যাদয়ের সময় এখনো অনেকটা বাকি। সবে বোষ্টামির ভগ্ন গলায় তুলসীদেবীর আরাধনা। সাথে দুই হাতের তালুর একত্রিত মেলবন্ধন যেন পঞ্চ ইন্দ্রিয় একই কথা বলে। ঘণ্টার শুদ্ধস্বরে তারা বেরিয়ে পড়ে। পায়ে হিমানীর পরশ মেখে শুভ্র চাদরে নিজেকে জড়িয়ে আধ-ঘুমাবস্থায় ক্লান্তিনগ্ন শরীরে পাথারের আঙ্গিনায় রঙিন স্বপ্নের জাল বুনে।চারিদিক এতটাই নির্মল যে তাদের সাঙ্গপানে চেয়ে আছে।এ মাসটাই যে দামোদর মাস।সুস্থ মস্তকে সুহৃদে আত্মগোপনে জয়োল্লাসের ঢাক বাজে।তারা আশাবাদী হাঁটু ভেঙ্গে পরিশ্রমের পানে চেয়ে। কাস্তের ঘচাঘচ শব্দে হৃদযন্ত্রের কম্পন খানিকটা বেড়েই চলেছে । দীর্ঘ নিশ্বাসে মেরুদণ্ড সোজা করে ফসল মাঠের শেষ প্রান্তে করুণাময় চোখে তাকিয়ে বলে, আর কত দূর? আতরহীন শরীরে চারদিকে ঘর্মাক্ত বাতাস বইতে থাকে।মস্তকের কালো চুলের ছিদ্র পথে ভোরের শিশির জমতে জমতে মুখে লবণাক্তের স্বাদ।তৃষাতুর অজিত জলের আকুতি করে। ইতোমধ্যে সূর্যের তীর্যক কিরণে আলোর ছটায় আফছা দেখতে পায় ছয় বছরের মেয়ে প্রাপ্তি। মাথায় গামছা বাধা ছোটো গামলা, হাতে জলের পাত্র সহসা বলে উঠলো, বাবা পন্তা এনেছি! খেয়ে যাও। অবসন্ন অজিত সযত্নে কাস্তে রেখে কোমরের বাধা গামছা খুলে মুখ মুছতে মুছতে স্নেহময়ী তরুতলে আসে।উষ্ণ ঠোঁটে শীতল কপোলে চুমু বসিয়ে বলে, আয় রে মা এখানে বস। পাকযন্ত্র পন্তাপুষ্ঠ করে নিমিষে জিরিয়ে নেয়। কাগজে তামাকের চুর মুড়িয়ে দিয়াশলাই এর ঘর্ষিত অগ্নি নাসায় লাগিয়ে দীর্ঘ এক টান।বড়োই তৃপ্তির নেশা। নাসারন্ধ্রে ধোঁয়া ছেড়ে,ফুঁ দিয়ে আকাশে তুলে। হালকা রোদে মৃদু সমীরণে ধানের ডগায় ছন্দহীন তালে ধান কাটার সমাপ্তি করে।অন্তহীন নীল আকাশের পানে চেয়ে খড়সহ ধান উঠানে তুলতে ব্যস্ত থাকে।আঁটি বাধা খড়ের বোঝা মাথায় চাপিয়ে নদীর তীরের ছোট্টো নৌকায় ভীড় জমায়। মল্লিকার গন্ধে গন্ধে পালতোলা নৌকায় পালে যখন সোনালি বর্ণের সূর্য ডুবতে থাকে তখন লক্ষ্মীর আগমন ঘটে। ধবল বকের ফেরার সাথে কৃষকের মুখে হেমন্তের নবান্নের স্বাদ জাগে।উঠানে লাল ঝুটি মোরগের কক কক শব্দে সোনালি ফসল ঘরে তুলে। চারিদিকে শ্বেত চাদরে অন্ধকার ঘনীভূত হতে থাকে। শত হতাশার ছাপ মুছে রজন দা সোনালি ফসল জড়িয়ে ধরে সন্ধ্যা উপভোগ করে।নিরবে বিরবিরিরে বলে,এবার মঙ্গা কাটবে। 


নাম : বসুদেব রায়,শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম রাবি শাখা। 

ই-মেইল :basu3dev3@gmail.com


গরম একটু বেশি হওয়ায় ইলেক্ট্রিসিটি অনেক আগেই চলে গিয়েছে

গরম একটু বেশি হওয়ায় ইলেক্ট্রিসিটি অনেক আগেই চলে গিয়েছে

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...


গোধূলি 




গরম একটু বেশি হওয়ায় ইলেক্ট্রিসিটি অনেক আগেই চলে গিয়েছে। গোধূলির পূর্ব মূহুর্তের উপভোগ নদীর তীর থেকে দেখা যে কতটা আহ্লাদের তা ভাষায় ব্যাখ্যা করা যাবে না।মেসো কাকার ছোট ছেলে তপ্বনকে দ্বিচক্রযানের পেছনে নিয়ে নদীর পাড়ে বেড়াতে এলুম।এই নদীর অনেক আগে নাকি একটা ঘাট ছিল তাই অনেকে ময়নার ঘাট বলেও এই জায়গাকে চিহ্নিত করে।আবার নদীর উপরে বিস্তৃত এলাকাকে সেই সূত্রে ময়নার ডাংগাও বলে অনেকে। কথিত আছে এই ডাংগায় নাকি চারিদিকে শুধু কাশবন,মোথা ঘাস আর জঙ্গলে ভরপুর ছিল।কাশবনকে কেন্দ্র করে কতরকম শিয়ালের বসবাস ছিল তা দাদাদের মুখে মুখে শোনা যেত।তবে এখন সেই ডাংগা আর ডাংগা নেই, হয়েছে ফসলের সোনার বাড়া।অনাবাদি জমি হয়েছে আবাদি জমিতে রূপায়ন এমন কী বিস্তৃত রাস্তা আজ আইলে পরিণত হয়েছে। এমনি তো নদীর কথা বলেছিলেন রবী ঠাকুর, "বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।" এখনও বুল্লাই নদীতে জল আছে,কিন্তু নদী তার জীবনের গতি হারিয়ে ফেলেছে। তার জীবনের অর্জিত সকল সম্পদ জলাঞ্জলি দিয়েছে। তাই বুল্লাইয়ের বুকে আশ্রিত জেলে সম্প্রদায় সাপের খোলসের ন্যায় তাদের পেশা পরিবর্তন করেছে।এই তো সেদিন বাড়ি ফেরার পথে গজেন চা তার রিকশা করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিল।প্রথমে তো চিন্তে না পেরে বললুম, ভাই এখন চলুন। কিছুক্ষণ পর আশ্চার্যান্বিত হলাম। তিনি বললেন, তুই আদিত্য দা'র ছেলে না?অঙ্ক তোর নাম না?তখন আর আমার বুঝতে দেরি হলো না। লজ্জিত হয়ে বললাম, গজেন চা চলেন খুবেই ক্লান্ত লাগতেছে। এই গজেন চা জেলে সম্প্রদায়ের লোক ছিল। মাছ বিক্রি ছিল  তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। যেতে যেতে ওনার সাথে আলাপচারিতায় মজেছিলাম। তখন ওনি বলেছিলাম, নদীতে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না,সংসারের খরচ বেড়েছে, কিস্তির টাকা সপ্তাহে পনেরো শত দিতে হয় ইত্যাদি। তাছাড়া নদী এখন জমিতে পরিণত হয়েছে,সত্যিই তাই হয়েছে। নদীর কোথাও কোনো পানকৌড়ি,পাতিহাঁস, মাছ রাঙায় দেখা মিললো না।সূর্যাস্ত প্রায় তবুও কিছু সময় ইন্দ্র দার অপেক্ষায় ছিলাম।ইন্দ্র দা আমার বোধ অবধি এই নদীতে টনি জাল ফেলে মাছ ধরতে অভ্যস্ত। নদীর ধারে এসে বললো, মাছ নাই রে ভাই। বিশ্বাসই যখন আমার হলো না, তখন তার খোলাই উপুর করে দেখলাম তিনটা পুটির সাথে একটা শাটি।বলার আর কিছু থাকল না।তপ্বনকে বললুম,পেছনে বস রেডি, স্টার্ট বলে চক্রযানের পেডেল মারতে লাগলাম। মনে হচ্ছে, পেডেল ঘোরার সাথে সাথে মানুষ ও চার পাশের পরিবেশেরও পরিবর্তন হচ্ছে। তবে মানুষ না পরিবেশ আগে পরিবর্তন হচ্ছে,তা ভাবার বিষয়।


দিন পেরিয়ে রাত আসে মানুষ দিন-বদলের জোয়ারে ভাসে।আর সেই জোয়ারের স্রোতে গা ভাসিয়ে নয়, বরং নিজের অবস্থান ঠিক রাখাই হচ্ছে রদবদল অথব সমাজের অগ্রগতি। কে যেন স্যামবা স্যামবা বলে এদিকে আসছে। নক্ষত্রহীন আকাশে অন্ধকারের জন্য তাকে দেখতে পেলুম না।কাছাকাছি এসেই বললো, বড়দা হোয়াটসঅ্যাপ? আমি বললুম এই তো।তোর কি অবস্থা, নয়ন? আই এ্যাম ফাইন।বাট আই সাফার থিংকিং প্রোবলেম। ডোন্ট মাইন্ড ক্যান আই আস্ক এ্যা কইসেন? অফকোর্স। বড়দা, (a+b)2 =a2+2ab+b2 হয় এটা জেনে আমাদের লাভ কি? আমি বললাম,বাহ্! নয়ন দারুণ প্রশ্ন করেছিস। ভাই এর উত্তর আমার কাছেও জানা নেই।আর কোনো দিন জানাও চেষ্টা করিনি,তবে সূত্র মুখস্থ করে গণিতের এই অঙ্কগুলো পরিক্ষার খাতার চুকিয়ে দিতাম । বড়দা,বইয়ে এমন কিছু বিষয় থাকে যা আমি বাস্তবে অনুধাবন করতে পারি না। তাই আমার বই পড়তে ভালো লাগে না। বর্গের সূত্র কি কাজে লাগে, তা জানার জন্য তো তোকে পড়তে হবে,পাগল।সে আর কর্ণপাত করলো না আমার কথা,ওকে ব্রো বলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। অন্ধকার যতই ঘনীভুত হয় ততই ওদের ক্ষুৎপিপাসা বাড়তে থাকে।পশ্চাৎ চারণ না করে ওরা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পড়ে।হোক সেটা ভালো আর মন্দ। এ বয়সটাই তো ওদের।হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খিস্তির শব্দ শুনে পশ্চিম দিকে তাকাতে কিছু সদ্য আলোর ব্যঞ্জন দেখতে পেলুম। এ যেন অস্ত্র বিনা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।মুজে মারো মুজে মারো,ঠিস ঠিস, এনিমি এনিমি, ইস ইস কত হতাশার শব্দ। গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গামাটির পরে আমার মন ভুলায় রে, গান শুনতে শুনতে ওদের সামনে হাজির হলাম। গানেও ওদের স্নায়ুতন্ত্র কাজ করে না।নিমিষের জন্যেও ৭ ইঞ্চির বাইরে পলক ফেলতে পারে না। এটাই যেন ওদের পণ।ওদের যেন ক্লান্তি আসে না,  এ যেন একান্তই ওদের পরিবেশ। এভাবেই ওরা চলছে…..


নাম : বসুদেব রায়,শিক্ষার্থী  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য বাংলাদেশ তরুন কলাম লেখক ফোরাম রাবি শাখা। 

ই-মেইল :basu3dev3@gmail.com


একগুচ্ছ আলোচ্ছটা চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিল

একগুচ্ছ আলোচ্ছটা চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিল

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...


ভ্রম

মনজুর আলম রেযা।


একগুচ্ছ আলোচ্ছটা চোখে জ্বালা ধরিয়ে দিল,
হৃদয়ের মধ্যিখানে হঠাৎ হুহু করে আওয়াজ এলো,
এ আমি নই,আমি এমন ছিলামনা কখনোই।

আহিত বস্তুর কারণে যেমন পার্শ্বব আবিস্ট হয়,
ফ্রিকোয়েন্সির তাড়নায় হয় যেমন পরবশ কম্পন,
তেমনি কিরকম জানি এক তরঙ্গের ঢেউয়ে সব এলেমেলো হয়ে গেলো,
এ যেন অদম্য এক আকুতির বেড়াজাল।

শীতের সকাল বা গ্রীষ্মের পড়ন্ত বিকেল,
প্রকৃতির পরিক্রমা আমি অবলোকন করতে চেষ্টা করি বৈ কি!
এতদসত্ত্বেও ঘন শীতের অমূল্য উত্তরীয় জড়িয়ে রাখে,
যেমন জড়িয়ে রাখে তোমার অদৃশ্য ছায়ার প্রতিবিম্ব।

আকাশগঙ্গার সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল যেমন সব চুষে নেয় নির্বিচারে,
তোমাকেও কি স্রষ্টা সেই ক্ষমতায় মিশিয়েছে?
নাকি পৃথিবীর মত, যত অথর্ব শ্লেষ আছে সব সাদরে গ্রহণ করেও মায়ার চাদরে আকড়ে রাখো?

এসব বাতালাপ উন্মুক্ত করার কোন ইচ্ছে আমার ছিলনা,
তদুপরি ভ্রমের ঘোরে যা আসে হাইপোথ্যালামাসে,তা অস্বীকার করার প্রয়াসও আমি করিনে,
যেমন করিনা তোমার পরিচয় জানার কোন প্রয়োজনীয়তা,
তুমি যে কোন সন্তোষবিধায়িত্রী,
আছো কালের অসীম কুয়াশার অন্তরালে হয়ত অপেক্ষমান।

(সদস্য,বিটিসিএলএফ)
আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই নামাজ ও ইস্তেখারার মাধ্যমে প্রতিটি মিনার ও নগরে ঘুরে ঘুরে।

আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই নামাজ ও ইস্তেখারার মাধ্যমে প্রতিটি মিনার ও নগরে ঘুরে ঘুরে।

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

আশ্রয় চাই

লেখা ~ হিবা আবু নাদা

অনুবাদ ~ মুহাম্মদ আমিন 




আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই
নামাজ ও ইস্তেখারার মাধ্যমে
প্রতিটি মিনার ও নগরে ঘুরে ঘুরে।

জেনারেলের ইঙ্গিতে
মুহূর্তে মুহূর্তে বোমা বর্ষণ
এটিই যুদ্ধের রণক্ষেত্র।

আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই
 সন্তানদের দোহাই দিয়ে
 যিহোবার সামনে আর সে
হাসি দিয়ে পথ বদলে ফেললো।

আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই 
দেখো! ঘুমান্ত সন্তানদের
যেন ঘুমিয়ে আছে 
পাখির ছানা আপন নীড়ে 

কারণ
রজনীর নিন্দ্রা তো উড়েই গেছে
মৃত্যুর মিছিল ঘরে ঘরে ফিরছে।

সন্তানহারা মার চাপা কান্না 
খুঁজে বেড়ায় 
তাকে কফিনে কফিনে।

আমি আশ্রয় চাই 
সন্তানের পিতার দোহাই দিয়ে
যে,পতন থেকে বুর্জকে রক্ষা করে যাচ্ছে।

সে মৃত্যু ক্ষণকে বলছে,
দয়া করো আমায়
আহ্! তুমি যদি একটু দেরি করতে।




বলছে, তাদের জন্যই আমার এ জীবন
অনুরোধ করছি,
তাদের দিয়েও এক সহজ মরণ।


আশ্রয় চাই তোমার 
প্রতিরোধ বা পরাধীনতায় 
আহত ও নিহত হওয়ার।

পথ-ঘাট তাসবীহ জপে
প্রতিটি বিস্ফোরণে
মসজিদ-গৃহে রক্ষায় 
নিবেদন করে।

হত্যার বোমাবর্ষণ উত্তরের
নামাজে নামাজে
কুনূতে নাযিলা দক্ষিণের। 

উত্তরে বোমাবর্ষণে
 প্রকম্পিত হলে
দক্ষিণে কুনূতের
 জোয়ার বয়

তোমার আশ্রয় চাই 
আহত বা আক্রান্ত থেকে
ভয় নেই তোমার
রক্ষীত বিল কুরআন

ফুসফুর থেকে আসে কমলার ঘ্রাণ
আকাশ আচ্ছন্ন হয় 
ধোঁয়ায় তামাম।

আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই
স্বদেশ প্রেমে যারা লুটে পড়ে ধূলয়
হেসে হেসে প্রাণ দেয় নিশ্চই।


নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন editorial.tdse@gmail.com
আজ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করি, তাহার দেখা নাই।

আজ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করি, তাহার দেখা নাই।

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

শীতের সূর্য


মোঃ জসিম উদ্দিন


                     
আজ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করি,
তাহার দেখা নাই।
যদিও তারে পাই মধ্যাহ্ন হয়ে যায়।

এই হিম শীতল পরিবেশে,ঐ কৃষাণির ঘরে,
তাহার বড্ড প্রয়োজন।
ঘরের দুমুঠো ভাতের জন্য,এই শীতল প্রভাতে
অনিচ্ছা সত্ত্বেও যে কৃষক মাঠে যায়,
সেও চায় তোমার দেখা, তোমার দেখা নাই।
যদিও তোমারে পায় মধ্যান্ন হয়ে যায়।

ঐ যে শিশু,স্কুলে পড়ে
হাড় কাঁপানো উত্তরের শীতে ,
প্রতিদিন সে যায়।সেও চায় 
তোমার দেখা, তোমার দেখা নাই।
যদিও তোমারে পায় মধ্যাহ্ন হয়ে যায়।

পৌষ-মাঘের হীমের দিনে,
তোমার যখন খুব প্রয়োজন,
ঐ সে গৃহহীনের,যে রাস্তার পাশে শুয়ে।
কাঁপতে কাঁপতে উপর দিকে চেয়ে চেয়ে চায়,
তোমার দেখা নাই।
যদিও তোমারে পায় মধ্যাহ্ন হয়ে যায়।

সূর্য,তুমি কি তোমার সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছো?
তুমি কি ভুলে গেছো সে কৃষাণির কথা?
ভুলে কি গেছো সে শিশুর কথা?
নাকি ভুলে গেছো ঐ গৃহ হীনকে?
সময় কি তোমার এখনো হয় নাই?


মোঃ জসিম উদ্দিন,
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।



নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন editorial.tdse@gmail.com
নিঃসঙ্গতাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়ে

নিঃসঙ্গতাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়ে

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...



নিঃসঙ্গতা

লেখা ~  মোঃ রায়হান কাজী
-----------------------------
নিঃসঙ্গতাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গিয়ে,
কালের চক্রের বিবর্তন ঘটে অন্তঃ মস্তিকে।
প্রণয়নের রৌদ্র দীপ্ত কিরণে ঝলমলিয়ে,
স্মৃতির পান্ডুলিপি আঁকড়ে ধরে অস্থিসন্ধিকে।

র্মব্যস্ত মহানগরীতে দিনশেষে স্নিগ্ধমায়ায়,
যখন আঁধার নেমে আসে শূণ্যতা তখন বাসা বাঁধে।
পাওয়া না পাওয়ার মৌনতা জাগরিত হয় অপূর্ণতায়,
যখন আক্ষেপগুলো পিছনে ফিরে যেতে বাঁধ সাধে।

পাহাড়সম টর্নেডো ঝরের মতো করে অসময়ে,
আন্তঃসম্পর্কগুলো ঝর্ণায় রূপান্তরিত হয় নিমিষে।
তারপর আবারও কাঁচা সোনা রৌদ উঁকি দেয় দেয়ালে,
দুর্বা ঘাসের ডগার মতো শিশির জমে দ্যুতি ছড়ায় ক্ষণিকে।

নিশ্চুপ হয়ে ভাবুক মনে প্রশ্ন জমে চোখের কার্ণিশে,
কৃত্রিম যান্ত্রিকতার সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতির অন্তঃ আবরণে।
কতটুকু ঠিক ভরসা যোগান দিবে স্নেহ মায়া বার্ণিশে?
নাকি আমার প্রছন্ন সাধনার রূপ নিবে অন্তিম বিবরণে।

স্বপ্নময় অস্থির মনে কিঞ্চিৎ স্বস্তি আনতে গিয়ে,
ভাবনার অথৈজলে ডুব দিয়ে নতুনত্বের উদ্ভব কোলাহলে।
খুঁজে ফিরি কথামালার শব্দ ঝুরি পরিচিত শব্দে,
অতীত স্মৃতিটুকু এমনি করে থাকুক নিঃসঙ্গতায় অম্লান হয়ে।