Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts

Friday, November 17, 2023

একজন লেখক হলেন এমন একজন ব্যক্তি

একজন লেখক হলেন এমন একজন ব্যক্তি

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...




একজন লেখক হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি বিভিন্ন ধরনের এবং কৌশলের লিখিত শব্দগুলি যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করেন। লেখকরা বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য শিল্প এবং সৃজনশীল লেখার জন্মদান করেন, যেমন উপন্যাস, ছোট গল্প, কবিতা, নাটক, চিত্রনাট্য এবং প্রবন্ধ পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিবেদন গুলি এবং খবর নিবন্ধ যার প্রতি জনগণ আগ্রহী হতে পারে। লেখকদের লেখা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। দক্ষ লেখক, যাঁরা ভাষার মাধ্যমে ধারণাকে ভালভাবে প্রকাশ করতে ব্যবহার করতে সক্ষম হন, একটি সমাজের সংস্কৃতিতে তাঁদের অবদান অপরিসীম।

চারুকলার ক্ষেত্রে "লেখক" শব্দটি অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয় – যেমন গীতি লেখক – তবে শুধু "লেখক" বললে সাধারণত, যিনি লিখিত ভাষা তৈরি করেন, তাঁকে বোঝায়। কিছু লেখক মৌখিক প্রথা থেকে কাজ করেন।
লেখক বলতে কোন ব্যক্তি কর্তৃক রচিত লিখন কর্ম বা কোন কিছু লেখাকে বুঝায়। তবে যে কোন লেখার অধিকর্তাই লেখকরূপে স্বীকৃতি পান না; তাঁর লেখায় সাহিত্যিক গুণাবলী থাকতে হবে। সাধারণতঃ যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ সৃষ্টিশীল কোন লেখনী কিংবা লেখাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন, তিনিই লেখকরূপে গণ্য হয়ে থাকেন। 

লেখকরা কাল্পনিক বা বাস্তব বেশ কয়েকটি রীতির উপাদান তৈরি করতে পারেন। অনেক লেখক তাঁদের ধারণাকে সবার কাছে পৌঁছে দেবার জন্য একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করেন – উদাহরণস্বরূপ, গ্রাফিক্স বা চিত্রণ। নাগরিক এবং সরকারী পাঠকদের দ্বারা, অ-কাল্পনিক প্রযুক্তিবিদদের কাজের জন্য, সাম্প্রতিক আরেকটি চাহিদা তৈরি হয়েছে, যাদের দক্ষতা ব্যবহারিক বা বৈজ্ঞানিক প্রকৃতির বোধগম্য, ব্যাখ্যামূলক দস্তাবেজ তৈরি করে। কিছু লেখক তাঁদের লেখাকে আরও বোধগম্য করার জন্য চিত্র (অঙ্কন, চিত্রকর্ম, গ্রাফিক্স) বা মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন। বিরল দৃষ্টান্তে, সৃজনশীল লেখকগণ তাঁদের ধারণাগুলি সংগীতের পাশাপাশি শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে সক্ষম হন। লেখকের স্ত্রীবাচক শব্দ হচ্ছে লেখিকা। লেখককে অনেকক্ষেত্রে গ্রন্থকারের সমার্থক শব্দরূপে গণ্য করা হয়। কিন্তু লেখক শব্দটি মূলতঃ ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাঁদের নিজস্ব রচনাগুলি সৃষ্টির পাশাপাশি, লেখকরা প্রায়শই কীভাবে তাঁরা লেখেন সেটাও প্রকাশ করেন অর্থাৎ যে প্রক্রিয়াটি তাঁরা লেখার জন্য ব্যবহার করেন; কেন তাঁরা লেখেন? তাদের প্রেরণা কি? এবং অন্যান্য লেখকের কাজের বিষয়েও মন্তব্য সমালোচনা করেন।লেখকরা পেশাদার বা অপেশাদারভাবে কাজ করেন, অর্থাৎ, অর্থের জন্য বা অর্থ ছাড়াই, এছাড়াও অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে বা কাজ শেষ করার পর কেবল তাঁদের কাজ প্রকাশিত হবার পরে। অর্থ প্রাপ্তি লেখকদের অনেক অনুপ্রেরণার মধ্যে একটি, অনেকে তাঁদের কাজের জন্য কখনও কোন অর্থই পান না। তাছাড়া লেখকদের লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় ও বই আকারে প্রকাশনী—থেকে প্রকাশিত হয় যা লেখকদের লেখার দিকে উৎসাহিত করে।

লেখক শব্দটি প্রায়শই সৃষ্টি মূলক লেখক এর প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও পরবর্তী শব্দটির কিছুটা বিস্তৃত অর্থ রয়েছে এবং লেখার কোনও অংশের জন্য আইনি দায়িত্ব জানাতে ব্যবহৃত হয়, এমনকি এর রচনাটি বেনামে, অজানা বা সহযোগী হলেও।


লেখকদের প্রকারভেদ :
১। ঔপন্যাসিক - যিনি উপন্যাস রচনা করেন।
২। কবি - যিনি কবিতা লিখেন।
৩। ব্লগ লেখক বা ব্লগার - যিনি সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ব্লগে লিখেন।
৪। লেখকরা তাদের ধারণাগুলি প্রকাশ করার জন্য সাহিত্য রীতির শ্রেণির মধ্যে থেকে একটি পছন্দ করেন। বেশিরভাগ লেখাই জন্য অন্য একটি মাধ্যমের ব্যবহারের জন্য অভিযোজিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনও লেখকের কাজ - ব্যক্তিগতভাবে পড়া বা আবৃত্তি বা কোনও নাটক বা চলচ্চিত্রে পরিবেশিত হতে পারে। যেমন কোন ব্যঙ্গাত্মক রচনাকে একটি কবিতা, একটি প্রবন্ধ, একটি চলচ্চিত্র, একটি কমিক নাটক, বা সাংবাদিকতার একটি অংশ হিসাবে লেখা যেতে পারে। কোনও চিঠির লেখকের মধ্যে সমালোচনা, জীবনী বা সাংবাদিকতার উপাদান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

অনেক লেখক বিভিন্ন ধারায় কাজ করেন। ধারাটি স্থিতিমাপ তৈরি করে তবে সমস্ত ধরনের সৃজনশীল অভিযোজনেরও চেষ্টা করা হয়: উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্র; কবিতা থেকে নাটক; ইতিহাস থেকে সংগীত। লেখকরা তাঁদের সাহিত্যচর্চা একটি ধারায় শুরু করতে পারেন এবং তারপর অন্য একটি ধারায় চলে যেতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ, ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল শুরু করেছিলেন ভ্রমণ সাহিত্য রচনার ধারায় এবং একজন সাংবাদিক হিসাবেও লেখেন। অনেক লেখক কথাসাহিত্য এবং অ-কাল্পনিক উভয় রচনাই সৃষ্টি করেছেন এবং অন্যরা দুটি ধারাকে অতিক্রম করে এমন একটি ঘরানায় লিখেন। উদাহরণস্বরূপ, জর্জেট হায়ার এর মত ঐতিহাসিক প্রণয় কাহিনীর লেখক, ঐতিহাসিক সময়সীমার মধ্যে তাঁর চরিত্রদের এবং গল্পের পটভূমিকে রাখেন। এই ধারায়, ইতিহাসের যথার্থতা এবং কাজের সত্য ঘটনা বিশ্লেষণের স্তর উভয়ই বিতর্কিত হতে থাকে। কিছু লেখক সৃজনশীল কথাসাহিত্য এবং গুরুতর বিশ্লেষণ উভয়ই লেখেন, কখনও কখনও তাঁদের কাজ পৃথক করতে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করেন। উদাহরণস্বরূপ, ডরোথি সায়ার্স অপরাধ কল্পকাহিনী লিখেছেন, তবে তিনি নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং সমালোচকও ছিলেন।

রম্য লেখক—এখন সন্দেহ হচ্ছে, এই শ্রেণিবিভাগ আছে কি? কেউ কি শুধু রম্যই লেখেন?
সাংবাদিক—সংবাদ অবশ্যই লেখা। কাজেই এটা লেখকের আরেকটা ধরন। কিন্তু সব লেখা সংবাদ নয়। আবার সব সংবাদ কে লেখা মানতেও নারাজ অনেকে। আসমা বৃত্তি পাইয়াছে’—এই সংবাদ লেখক হয়তো লেখক/সাহিত্যিক ক্যাটাগরিতে পড়েন না।
কলামিস্ট—এবার ক্যাটাগরিটা ইংরেজিতে। বাংলা কী হবে? যদি বাংলা না থেকে থাকে, তাহলে ধরেই নিতে হবে এটা নতুন ক্যাটাগরি। আবহমান কাল ধরে বাংলা ভাষায় ছিল না। যিনি সংবাদপত্রে বা ম্যাগাজিনে ফিচারধর্মী লেখা লেখেন, তিনি কলামিস্ট।
লেখক—ওপরে অনেককে শুধু লেখক বললেই হয়। কিন্তু সবাইকে নয়। কবিকে লেখক বলা যাবে না, গীতিকারকেও না। নাট্যকারকে কি লেখক বলা যাবে? জানি না!
কথা থেকে যাচ্ছে, কে সাহিত্যিক দাবি করতে পারেন? সবাই? ওপরে প্রাবন্ধিককে সাহিত্যিক ক্যাটাগরি থেকে বাদ দিয়েছিলাম। না জেনেই। এখন বুঝতে পারছি, সেটা অবশ্যই সাহিত্যের একটা প্রধান ক্যাটাগরি। রবীন্দ্রনাথও প্রবন্ধ লিখেছেন। বেশ খারাপ লাগছে, কিন্তু ওপরে উঠে আবার মুছতে ইচ্ছা করছে না। প্রাবন্ধিক ভাইবোনেরা, নিজগুণে ক্ষমা করবেন। সায়েন্স ফিকশন লেখক ভাইবোনেরা, আপনাদের কাছেও একই আবেদন। এখন মনে পড়েছে, জুলভার্ন তো সায়েন্স ফিকশন লিখেছেন। তিনি একজন বিরাট সাহিত্যিক! তাহলে যে যা–ই বলুক, সায়েন্স ফিকশন একটা সৃজনশীল সাহিত্য হতেই হবে।
কাজেই বুঝতেই পারছেন, তাড়াহুড়োর মধ্যেও বেশ একটা প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে অনেক কিছু উদঘাটন করা হলো, অনেক কিছু আবার অনুদঘাটিত থেকে গেল। গবেষণা হচ্ছে একটা কাঠিদৌড়ের মতো। আমি যেখানে থামব, সেখান থেকে আরেকজন কাঠি হাতে নিয়ে ছুটবে। তফাত হলো কাঠিদৌড়ে আগের পরের সবাই, পুরা টিম পুরস্কার পায়। গবেষণায় পায় সব শেষের জন। আগের গবেষকগুলো হাপিস হয়ে যায়। এই হলো জগতের নিয়ম।

Thursday, November 16, 2023

পূর্বাহ্নে সূর্যাদয়ের সময় এখনো অনেকটা বাকি

পূর্বাহ্নে সূর্যাদয়ের সময় এখনো অনেকটা বাকি

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

সোনালি সন্ধ্যা 





পূর্বাহ্নে সূর্যাদয়ের সময় এখনো অনেকটা বাকি। সবে বোষ্টামির ভগ্ন গলায় তুলসীদেবীর আরাধনা। সাথে দুই হাতের তালুর একত্রিত মেলবন্ধন যেন পঞ্চ ইন্দ্রিয় একই কথা বলে। ঘণ্টার শুদ্ধস্বরে তারা বেরিয়ে পড়ে। পায়ে হিমানীর পরশ মেখে শুভ্র চাদরে নিজেকে জড়িয়ে আধ-ঘুমাবস্থায় ক্লান্তিনগ্ন শরীরে পাথারের আঙ্গিনায় রঙিন স্বপ্নের জাল বুনে।চারিদিক এতটাই নির্মল যে তাদের সাঙ্গপানে চেয়ে আছে।এ মাসটাই যে দামোদর মাস।সুস্থ মস্তকে সুহৃদে আত্মগোপনে জয়োল্লাসের ঢাক বাজে।তারা আশাবাদী হাঁটু ভেঙ্গে পরিশ্রমের পানে চেয়ে। কাস্তের ঘচাঘচ শব্দে হৃদযন্ত্রের কম্পন খানিকটা বেড়েই চলেছে । দীর্ঘ নিশ্বাসে মেরুদণ্ড সোজা করে ফসল মাঠের শেষ প্রান্তে করুণাময় চোখে তাকিয়ে বলে, আর কত দূর? আতরহীন শরীরে চারদিকে ঘর্মাক্ত বাতাস বইতে থাকে।মস্তকের কালো চুলের ছিদ্র পথে ভোরের শিশির জমতে জমতে মুখে লবণাক্তের স্বাদ।তৃষাতুর অজিত জলের আকুতি করে। ইতোমধ্যে সূর্যের তীর্যক কিরণে আলোর ছটায় আফছা দেখতে পায় ছয় বছরের মেয়ে প্রাপ্তি। মাথায় গামছা বাধা ছোটো গামলা, হাতে জলের পাত্র সহসা বলে উঠলো, বাবা পন্তা এনেছি! খেয়ে যাও। অবসন্ন অজিত সযত্নে কাস্তে রেখে কোমরের বাধা গামছা খুলে মুখ মুছতে মুছতে স্নেহময়ী তরুতলে আসে।উষ্ণ ঠোঁটে শীতল কপোলে চুমু বসিয়ে বলে, আয় রে মা এখানে বস। পাকযন্ত্র পন্তাপুষ্ঠ করে নিমিষে জিরিয়ে নেয়। কাগজে তামাকের চুর মুড়িয়ে দিয়াশলাই এর ঘর্ষিত অগ্নি নাসায় লাগিয়ে দীর্ঘ এক টান।বড়োই তৃপ্তির নেশা। নাসারন্ধ্রে ধোঁয়া ছেড়ে,ফুঁ দিয়ে আকাশে তুলে। হালকা রোদে মৃদু সমীরণে ধানের ডগায় ছন্দহীন তালে ধান কাটার সমাপ্তি করে।অন্তহীন নীল আকাশের পানে চেয়ে খড়সহ ধান উঠানে তুলতে ব্যস্ত থাকে।আঁটি বাধা খড়ের বোঝা মাথায় চাপিয়ে নদীর তীরের ছোট্টো নৌকায় ভীড় জমায়। মল্লিকার গন্ধে গন্ধে পালতোলা নৌকায় পালে যখন সোনালি বর্ণের সূর্য ডুবতে থাকে তখন লক্ষ্মীর আগমন ঘটে। ধবল বকের ফেরার সাথে কৃষকের মুখে হেমন্তের নবান্নের স্বাদ জাগে।উঠানে লাল ঝুটি মোরগের কক কক শব্দে সোনালি ফসল ঘরে তুলে। চারিদিকে শ্বেত চাদরে অন্ধকার ঘনীভূত হতে থাকে। শত হতাশার ছাপ মুছে রজন দা সোনালি ফসল জড়িয়ে ধরে সন্ধ্যা উপভোগ করে।নিরবে বিরবিরিরে বলে,এবার মঙ্গা কাটবে। 


নাম : বসুদেব রায়,শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম রাবি শাখা। 

ই-মেইল :basu3dev3@gmail.com


গরম একটু বেশি হওয়ায় ইলেক্ট্রিসিটি অনেক আগেই চলে গিয়েছে

গরম একটু বেশি হওয়ায় ইলেক্ট্রিসিটি অনেক আগেই চলে গিয়েছে

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...


গোধূলি 




গরম একটু বেশি হওয়ায় ইলেক্ট্রিসিটি অনেক আগেই চলে গিয়েছে। গোধূলির পূর্ব মূহুর্তের উপভোগ নদীর তীর থেকে দেখা যে কতটা আহ্লাদের তা ভাষায় ব্যাখ্যা করা যাবে না।মেসো কাকার ছোট ছেলে তপ্বনকে দ্বিচক্রযানের পেছনে নিয়ে নদীর পাড়ে বেড়াতে এলুম।এই নদীর অনেক আগে নাকি একটা ঘাট ছিল তাই অনেকে ময়নার ঘাট বলেও এই জায়গাকে চিহ্নিত করে।আবার নদীর উপরে বিস্তৃত এলাকাকে সেই সূত্রে ময়নার ডাংগাও বলে অনেকে। কথিত আছে এই ডাংগায় নাকি চারিদিকে শুধু কাশবন,মোথা ঘাস আর জঙ্গলে ভরপুর ছিল।কাশবনকে কেন্দ্র করে কতরকম শিয়ালের বসবাস ছিল তা দাদাদের মুখে মুখে শোনা যেত।তবে এখন সেই ডাংগা আর ডাংগা নেই, হয়েছে ফসলের সোনার বাড়া।অনাবাদি জমি হয়েছে আবাদি জমিতে রূপায়ন এমন কী বিস্তৃত রাস্তা আজ আইলে পরিণত হয়েছে। এমনি তো নদীর কথা বলেছিলেন রবী ঠাকুর, "বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।" এখনও বুল্লাই নদীতে জল আছে,কিন্তু নদী তার জীবনের গতি হারিয়ে ফেলেছে। তার জীবনের অর্জিত সকল সম্পদ জলাঞ্জলি দিয়েছে। তাই বুল্লাইয়ের বুকে আশ্রিত জেলে সম্প্রদায় সাপের খোলসের ন্যায় তাদের পেশা পরিবর্তন করেছে।এই তো সেদিন বাড়ি ফেরার পথে গজেন চা তার রিকশা করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিল।প্রথমে তো চিন্তে না পেরে বললুম, ভাই এখন চলুন। কিছুক্ষণ পর আশ্চার্যান্বিত হলাম। তিনি বললেন, তুই আদিত্য দা'র ছেলে না?অঙ্ক তোর নাম না?তখন আর আমার বুঝতে দেরি হলো না। লজ্জিত হয়ে বললাম, গজেন চা চলেন খুবেই ক্লান্ত লাগতেছে। এই গজেন চা জেলে সম্প্রদায়ের লোক ছিল। মাছ বিক্রি ছিল  তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। যেতে যেতে ওনার সাথে আলাপচারিতায় মজেছিলাম। তখন ওনি বলেছিলাম, নদীতে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না,সংসারের খরচ বেড়েছে, কিস্তির টাকা সপ্তাহে পনেরো শত দিতে হয় ইত্যাদি। তাছাড়া নদী এখন জমিতে পরিণত হয়েছে,সত্যিই তাই হয়েছে। নদীর কোথাও কোনো পানকৌড়ি,পাতিহাঁস, মাছ রাঙায় দেখা মিললো না।সূর্যাস্ত প্রায় তবুও কিছু সময় ইন্দ্র দার অপেক্ষায় ছিলাম।ইন্দ্র দা আমার বোধ অবধি এই নদীতে টনি জাল ফেলে মাছ ধরতে অভ্যস্ত। নদীর ধারে এসে বললো, মাছ নাই রে ভাই। বিশ্বাসই যখন আমার হলো না, তখন তার খোলাই উপুর করে দেখলাম তিনটা পুটির সাথে একটা শাটি।বলার আর কিছু থাকল না।তপ্বনকে বললুম,পেছনে বস রেডি, স্টার্ট বলে চক্রযানের পেডেল মারতে লাগলাম। মনে হচ্ছে, পেডেল ঘোরার সাথে সাথে মানুষ ও চার পাশের পরিবেশেরও পরিবর্তন হচ্ছে। তবে মানুষ না পরিবেশ আগে পরিবর্তন হচ্ছে,তা ভাবার বিষয়।


দিন পেরিয়ে রাত আসে মানুষ দিন-বদলের জোয়ারে ভাসে।আর সেই জোয়ারের স্রোতে গা ভাসিয়ে নয়, বরং নিজের অবস্থান ঠিক রাখাই হচ্ছে রদবদল অথব সমাজের অগ্রগতি। কে যেন স্যামবা স্যামবা বলে এদিকে আসছে। নক্ষত্রহীন আকাশে অন্ধকারের জন্য তাকে দেখতে পেলুম না।কাছাকাছি এসেই বললো, বড়দা হোয়াটসঅ্যাপ? আমি বললুম এই তো।তোর কি অবস্থা, নয়ন? আই এ্যাম ফাইন।বাট আই সাফার থিংকিং প্রোবলেম। ডোন্ট মাইন্ড ক্যান আই আস্ক এ্যা কইসেন? অফকোর্স। বড়দা, (a+b)2 =a2+2ab+b2 হয় এটা জেনে আমাদের লাভ কি? আমি বললাম,বাহ্! নয়ন দারুণ প্রশ্ন করেছিস। ভাই এর উত্তর আমার কাছেও জানা নেই।আর কোনো দিন জানাও চেষ্টা করিনি,তবে সূত্র মুখস্থ করে গণিতের এই অঙ্কগুলো পরিক্ষার খাতার চুকিয়ে দিতাম । বড়দা,বইয়ে এমন কিছু বিষয় থাকে যা আমি বাস্তবে অনুধাবন করতে পারি না। তাই আমার বই পড়তে ভালো লাগে না। বর্গের সূত্র কি কাজে লাগে, তা জানার জন্য তো তোকে পড়তে হবে,পাগল।সে আর কর্ণপাত করলো না আমার কথা,ওকে ব্রো বলে সামনের দিকে এগিয়ে গেল। অন্ধকার যতই ঘনীভুত হয় ততই ওদের ক্ষুৎপিপাসা বাড়তে থাকে।পশ্চাৎ চারণ না করে ওরা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে পড়ে।হোক সেটা ভালো আর মন্দ। এ বয়সটাই তো ওদের।হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খিস্তির শব্দ শুনে পশ্চিম দিকে তাকাতে কিছু সদ্য আলোর ব্যঞ্জন দেখতে পেলুম। এ যেন অস্ত্র বিনা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।মুজে মারো মুজে মারো,ঠিস ঠিস, এনিমি এনিমি, ইস ইস কত হতাশার শব্দ। গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙ্গামাটির পরে আমার মন ভুলায় রে, গান শুনতে শুনতে ওদের সামনে হাজির হলাম। গানেও ওদের স্নায়ুতন্ত্র কাজ করে না।নিমিষের জন্যেও ৭ ইঞ্চির বাইরে পলক ফেলতে পারে না। এটাই যেন ওদের পণ।ওদের যেন ক্লান্তি আসে না,  এ যেন একান্তই ওদের পরিবেশ। এভাবেই ওরা চলছে…..


নাম : বসুদেব রায়,শিক্ষার্থী  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য বাংলাদেশ তরুন কলাম লেখক ফোরাম রাবি শাখা। 

ই-মেইল :basu3dev3@gmail.com


আজ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করি, তাহার দেখা নাই।

আজ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করি, তাহার দেখা নাই।

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

শীতের সূর্য


মোঃ জসিম উদ্দিন


                     
আজ কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করি,
তাহার দেখা নাই।
যদিও তারে পাই মধ্যাহ্ন হয়ে যায়।

এই হিম শীতল পরিবেশে,ঐ কৃষাণির ঘরে,
তাহার বড্ড প্রয়োজন।
ঘরের দুমুঠো ভাতের জন্য,এই শীতল প্রভাতে
অনিচ্ছা সত্ত্বেও যে কৃষক মাঠে যায়,
সেও চায় তোমার দেখা, তোমার দেখা নাই।
যদিও তোমারে পায় মধ্যান্ন হয়ে যায়।

ঐ যে শিশু,স্কুলে পড়ে
হাড় কাঁপানো উত্তরের শীতে ,
প্রতিদিন সে যায়।সেও চায় 
তোমার দেখা, তোমার দেখা নাই।
যদিও তোমারে পায় মধ্যাহ্ন হয়ে যায়।

পৌষ-মাঘের হীমের দিনে,
তোমার যখন খুব প্রয়োজন,
ঐ সে গৃহহীনের,যে রাস্তার পাশে শুয়ে।
কাঁপতে কাঁপতে উপর দিকে চেয়ে চেয়ে চায়,
তোমার দেখা নাই।
যদিও তোমারে পায় মধ্যাহ্ন হয়ে যায়।

সূর্য,তুমি কি তোমার সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছো?
তুমি কি ভুলে গেছো সে কৃষাণির কথা?
ভুলে কি গেছো সে শিশুর কথা?
নাকি ভুলে গেছো ঐ গৃহ হীনকে?
সময় কি তোমার এখনো হয় নাই?


মোঃ জসিম উদ্দিন,
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।



নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন editorial.tdse@gmail.com
আগুনডানা মেয়ে। সাদাত হোসাইনের নতুন উপন্যাস। আসছে ২০২৪ বইমেলায়।

আগুনডানা মেয়ে। সাদাত হোসাইনের নতুন উপন্যাস। আসছে ২০২৪ বইমেলায়।

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

আমজাদের মেয়েটা এসেছে বাবাকে দেখতে। মেয়ের নাম আয়েশা। সে এক হাতে তার মৃত বাবার ডান হাতের আঙুল ধরে আছে। বাঁ হাতে ক্রমাগত আঁকিবুকি করছে মাটিতে। আমজাদ প্রায়ই লুকিয়ে লুকিয়ে তাকে দেখতে যেত। এটা সেটা কিনে দিতো। কিন্তু আয়েশার মা তা পছন্দ করতনা। তারপরও সে যেতো। মেয়ে বলতো, ‘তুমি আমারে লুকাই লুকাই দেখতে আসো কেন আব্বা? আর সবাইর আব্বা তো তাদের লুকাই লুকাই দেখতে আসে না?’




আমজাদ এই কথার উত্তর দিতে পারত না। সে কঠিন মনের মানুষ। কিন্তু মেয়ের কাছে এলেই কথায় কথায় তার চোখে পানি চলে আসে। সে বলত, ‘আপনারে আম্মা একদিন আমি নিয়া যাব।’
‘কই নিয়া যাইবা?’
‘জলডাঙা।’
‘সেইখানে নিয়া কী করবা?’
‘সেইখানে অনেক পুতুল পাওয়া যায়। আপনারে আমি একটা পুতুল কিন্যা দিব।’
‘বড় পুতুল?’
‘হুম।’
‘কত বড়?’
‘আপনার সমান আম্মা।’
‘সেই পুতুলে কথা বলতে পারে?’
‘পারে।’
‘কী কথা বলে?’
‘আপনে বলেন আম্মা, কী কথা বললে আপনার ভালো লাগবে?’
এই প্রশ্নে আয়েশা চুপ করে থাকত। অনেকটা সময়। তারপর বাবার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলত, ‘পুতুলডা আমারে দেখলেই বলবে, আয়েশা মাইয়াডা একদম তার বাপের মতন হইছে। এই বাপ-বেটি মিল্যা আমার কইলজাডা জ্বালাই খাইল।’
‘এই কথা কেন বলবে আম্মা?’
আয়েশা খিলখিল করে হাসত, ‘আমাগোর পাশের বাড়ির আদিবার মা সারাক্ষণ খালি আদিবারে এই কথা বলে। বলে, ‘মাইয়াডা একদম বাপের মতন হইছে। বাপটাও আমারে শান্তি দেয় না, মাইয়াডাও না। এই বাপ-বেটি মিল্যা আমার কইলজাডা জ্বালাই খাইল।’
বলেই আবার হাসে আয়েশা। তবে তার চোখ ছলছল করতে থাকে। সে ভেজা গলায় বলে, ‘আদিবার আব্বা আর আদিবা তখন মায়ের কথা শুইনা কী করে জানো আব্বা?’
‘কী করে?’
‘একজন আরেকজনরে জড়াই ধইরা খালি হাসে। খালি হাসে। তার মা তখন তাদের আরও বকতে থাকে। আরা তারা দুইজন তখন আরও হাসতে থাকে। তারপর আদিবার আব্বা আদিবারে ধইরা একশ চুমা দেয়। আদিবার মায় তখন কী বলে জানো?’
‘কী?’
‘বলে বাপ-বেটির ঢং দেখে আর বাঁচি না। গায়ে আগুন ধরে যায়। এতো ঢং যে এরা কইত্থেকে শিখছে! আদিবা তখন তার আব্বার গলা জড়াই ধরে বলে, বাপের কাছ থিকা শিখছি। আমার বাপের কাছ থিকা শিখছি। আমি হইলাম বাপের মাইয়া। বাপের মতন হইছি। বলে কী যে হাসি তার! ’
আয়েশার গলা ভেজা। সে সেই ভেজা গলায়ই বলে, ‘আমার তখন খালি কান্দন পায় আব্বা। খালি কান্দন পায়।’
আমজাদ তখন বলার মতো আর কোনো কথা খুঁজে পায় না। কী বলবে সে? তার গলা শুকিয়ে আসে। বুক ধড়ফড় করে। সে মেয়েকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে, ‘সবার আব্বাতো আর ভালো আব্বা হয় না মা। তাই তোমার আব্বায়ও আদিবার আব্বার মতো হইতে পারে নাই। ’
আয়েশা অবশ্য বাবার কথা মানে না। সে ফিসফিস করে বলে, ‘তুমি সবচাইতে ভালো আব্বা। এই দুনিয়ায় তোমার চাইতে ভালো আব্বা আর নাই। তুমি এখন একটা কাজ কর।’
‘কী কাজ আম্মা?’
‘তুমি এখন আমারে জড়াইয়া ধইরা চুমা দাওতো। কয়টা চুমা দিবা জানো?’
‘কয়টা?’
‘একশ একটা।’
‘একশ একটা কেন?’
‘কারণ আদিবার আব্বা আদিবারে প্রত্যেকদিন একশটা চুমা দেয়। তুমি আমারে দিবা একশ একটা। একটা চুমা বেশি দিবা।’
আমজাদ কথা বলতে পারে না। তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। হৃদস্পন্দন থেমে যেতে চায়। বুক হাসফাস করতে থাকে।
~ আগুনডানা মেয়ে।
সাদাত হোসাইনের নতুন উপন্যাস। আসছে ২০২৪ বইমেলায়।

Tuesday, October 24, 2023

ভালোবাসার অনুভূতি

ভালোবাসার অনুভূতি

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

ভালোবাসার অনুভূতি 

ভালোবাসি বললেই তো আর ভালোবাসা হয় না,
ভালোবাসা হচ্ছে আবেগ অনুভূতি উপলব্ধির সমন্নয়। 
মুখে ভালোবাসি বলাটা হয়তো-বা  ভালো লাগা,
কিন্তু মন থেকে কাউকে অনুভব করাটা ভালোবাসা। 

একপা দু'পা এগিয়ে গিয়ে আবার পিছিয়ে এসে,
দিনশেষে উদাসীন মনটা আনমনে কাউকে ভাবলে
তাকে কি ভালোবাসা বলে, তা অবুঝ মনটা জানে না?
তবে এতটুকু জানি অনুভবেও ভালোবাসা থাকে।

কেউ হয়তো নিঃশব্দে কাঁদে গভীর রাতে অন্ধকারে, 
কেউবা মুচকি হাসে ক্লান্তিহীন উদাসীন দুপুরে। 
আগন্তুক এসে বললো কেন আছ চুপ করে?
হৃদয়ের অব্যক্ত কথা ছড়িয়ে দেও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। 

তবুও ভয়কে জয় করো হৃদযন্ত্রে ধ্বনি তুলে পথ চলো,
সত্য প্রকাশ পাবে ভালোবাসা তোমার প্রকাশিত হবে।
হাওয়ার মাঝেও তোমার অপ্রকাশিত কাব্য কথা উঠবে, 
মনের মানুষ দেখবে দূর থেকে তোমাকেই অনুভব করবে।

লেখা : মোঃ রায়হান কাজী 



মোড়ল

মোড়ল

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

কবিতা

শক্তি তোমার আছে তাইতো
খাটাও প্রভুত্ব,,
অস্তিত্ব একদিন বিলীন হবে
থাকবে না গুরুত্ব। 

মোড়ল সেজে দাপুটে তুমি 
কত যে বাহাদুরি 
মাতব্বরি বেশ করতে পার
আছে মেলা জুড়ি। 

চতুর শৃগাল নিজেকে ভাবো
বুদ্ধি খাটাও বেশ 
লেজটা যেদিন কর্তন হবে
সেইদিন তুমি শেষ।

নীতিকথা বেশ বলতে পার
দেখাও মানবতা,
তবু শুভ বুদ্ধির হয়না উদয়
শুধুই বর্বরতা। 

বৈষম্য নীতি পরিহার করো
মানুষ সবাই সমান,
বিরোধ নয় মীমাংসা করো
তবেই পাবে সম্মান।

লেখা : মিলাদ হোসেন