Showing posts with label ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts

Wednesday, November 15, 2023

আমাকে পৌঁছে দিও– সূরা ইয়া'সীন।

আমাকে পৌঁছে দিও– সূরা ইয়া'সীন।

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...
সালমান হাবীব - কবিতায় গল্প বলা মানুষ



আমি চলে গেলে– পৃথিবীর কোথাও
কোনো এক বিষণ্ণ গাঙচিল তার ওড়ার গতি
থামিয়ে নেমে আসবে জলে?
ঝরে যেতে যেতে ব্যথিত হবে কি
অরণ্যে কোনো এক মৃতপ্রায় পাতা?
কোথাও কি বেশ-কম হবে কিছু; আমি নেই বলে?
যদি মাঝরাতে ঘুম ভেঙে শোনো;
সচল শ্রবণযন্ত্রে– মসজিদের এলান,
শোক সংবাদ নিয়ে এসেছে মৃত্যুর ফরমান
পাশ বদল করে তুমি কি ঘুমিয়ে যাবে ফের?
তখনও রাত পোহায়নি সকালের বাকি আছে ঢের!
হেঁটে যেতে যেতে যদি পথে পড়ে আমার কবর,
তুমি কি দাঁড়াবে খানিক, স্মৃতি স্মরে ভেজাবে অধর?
জানি, মৃত্যুর চেয়ে ব্যস্ত জীবন
যেন ঘন বসতির পাশে বেড়ে ওঠা পরিত্যক্ত বন!
ব্যস্ততা ভুলে তুমি দাঁড়িয়ো সেদিন
আমাকে পৌঁছে দিও– সূরা ইয়া'সীন।
সালমান হাবীব - কবিতায় গল্প বলা মানুষ
বই : আমায় তুমি ফিরিয়ে নিও ফুরিয়ে যাবার আগে

নবীন- প্রবীন লেখীয়োদের প্রতি আহ্বান: সাহিত্য সুহৃদ মানুষের কাছে ছড়া, কবিতা, গল্প, ছোট গল্প, রম্য রচনা সহ সাহিত্য নির্ভর আপনার যেকোন লেখা পৌঁছে দিতে আমাদেরকে ই-মেইল করুন editorial.tdse@gmail.com

Sunday, November 12, 2023

নিয়তে অসততা থাকার জন্য আমাদের উপর বহু ধরণের বিপদ আসতে পারে

নিয়তে অসততা থাকার জন্য আমাদের উপর বহু ধরণের বিপদ আসতে পারে

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

লেখক :মোঃ মেহেদী হাসান
লেখক :মোঃ মেহেদী হাসান


শুধু নিয়তে অসততা থাকার জন্য আমাদের উপর বহু ধরণের বিপদ আসতে পারে। শুধু নিয়তে অসততা থাকার জন্য আমাদের উপর বহু ধরণের বিপদ আসতে পারে। আমাদের রিযিকে বারাকাহ আসতে পারে শুধুমাত্র নেক নিয়তের কারণে; আবার রিযিক কেড়ে নেয়া হতে পারে শুধুমাত্র বদ নিয়তের কারণে। কুরআনে সুরা ক্বালামে আল্লাহ তা'আলা খুব সুন্দর উপমা দিয়েছেন একটি ঘটনার মাধ্যমে। আসুন জেনে নেই কুরআনের সেই গল্প! তাফসীরে (ইবন কাসীর) এসেছে, ঘটনাটি Yemen/Ethiopia এর একদল সহোদরের। একটি মত আছে যে তারা আহলে কিতাব ছিলেন। তাদের বাবা একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন। তার একটি বাগান ছিল। তিনি প্রতিবছর বাগানে যা ফলন হত, তা থেকে পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় অংশ রেখে বাকিটা দান করে দিতেন। এতে আল্লাহ তা'আলা তার রিযিকে আরো বারাকাহ দিতেন।  তো তার মৃত্যুর পর তার ছেলেরা যখন বাগানটি দেখাশুনা করতে লাগল, তখন তারা ফন্দী আঁটল যে বাবার মত বোকামি (!) তারা করবে না। বাবা বোকা ছিলেন তাই দান করতেন। কিন্তু তারা তো ভারী বুদ্ধিমান! তাই তারা সবটাই নিজেদের জন্য রেখে দিবে। যেই ভাবা সেই কাজ! ফসল কাটার আগের দিন তারা পরিকল্পনা  করল, পরদিন খুব ভোরেই তারা বাগানে উপস্থিত হবে। এমকি তারা এ ব্যাপারে শপথ পর্যন্ত করল! যাতে কোনো সাহায্যপ্রার্থী / মিসকীন আসের আগেই তারা সব ফসল কেটে নিতে পারে। তাতে করে আর কাউকে কিছু দান করা লাগবে না। ব্যস! আপদ বিদায়! তারা একটিবারও আল্লাহকে স্মরণ করল না। ইন শা আল্লাহ বলল না।Little did they realize that Allah had His plans too! রাতে যখন তারা গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন সেই বাগানের উপর প্রচন্ড ঝড় বয়ে গেল যা বাগানটিকে ছিন্ন-বিছিন্ন করে দিল।  এদিকে বাগানের মালিকগণ অঘোরে ঘুমাচ্ছে! খুব ভোরে তারা ঘুম থেকে একজন আরেকজনকে ডাকতে লাগল। যেন খুব দ্রুত তারা বাগানে পৌঁছে কাজ সেরে ফেলতে পারে। আর তারা ফিসফিস করে একে অপরকে বলল - আজ কেউ আমাদের কাছে কিছু চাইতে আসতে পারবে না - তার আগেই আমরা সব ফসল কেটে ফেলব। এবং নিজেদেরকে খুব সক্ষম মনে করল এ কাজের ব্যাপারে। এখানে একটু pause করে আমরা আমাদেরকে judge করি। আমরাও কি অনেক সময় এমন করি না? যে এমনভাবে কোনো কিছুর পিছনে টাকা খরচ করে ফেলি যেন যাকাত না আসে অথবা দান করা না লাগে? অথবা এমন সময়ে কোনো কাজ করি যাতে আমি নিজেই অক্ষম হয়ে যাই দান করতে। কারো সাথে কিছু share করতে না চাইলে তাড়াহুড়ো করে কোনো কিছু consume করে ফেলি। নিজেকে ইচ্ছকৃতভাবে অক্ষম করে আমরা আসলে কাকে ফাঁকি দিচ্ছি? আল্লাহ তা'আলার কোনো দরকার নেই আমাদের দানের। তিনি সকল প্রয়োজনের ঊর্ধে। দান করে আমরা নিজেদেরই উপকার করি। শুধুমাত্র দান করার নিয়তেই রিযিকে বারাকাহ আসে! আর দান করলে পরে আরো কত নেয়ামত আল্লাহ তা'আলা দেন! ফিরে আসি গল্পে - তো তারা বাগানে এসে হতভম্ব! এ কী অবস্থা বাগানের? এ কী করে সম্ভব? নিশ্চয়ই পথ ভুল হয়েছে! সম্বিত ফিরে পেয়ে তারা বুঝল, আসলে এ ছিল তাদের শাস্তি। বদ নিয়তের কারণে। তাদের মাঝে সবচেয়ে বুঝদার ব্যক্তিটি বলল, আমি কি তোমাদের বলিনি যে আল্লাহকে স্নরণ করো? তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে বলল,  নিশ্চয়ই আমার যুলম করেছি। তারা আল্লাহ'র কাছে তওবা করলো এবং আশা করলো যে আল্লাহ তাদেরকে উত্তম বিনিময় দিবেন। এই ঘটনা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা'আলা আমাদের স্মরণ করে দিচ্ছেন - আযাব এভাবেই আসে। আর আখিরাতের আযাব তো আরো ভয়ংকর! এই ঘটনাটি থেকে শিখার অনেক কিছু আছে -১। নেক নিয়তের কারণে রিযিকে বারাকাহ আসতে পারে। আবার বদ নিয়তের কারণে রিযিক কেড়েও নেয়া হতে পারে এবং বিপদ নেমে আসতে পারে।২। কোনো অবস্থাতেই যেন আল্লাহ'র স্মরণ থেকে গাফেল না হই।৩। পরবর্তী সময়ে কিছু করার কথা উল্লেখ করলে অবশ্যই ইন শা আল্লাহ বলা উচিৎত।৪। দান করলে সম্পদ কমে যায় না বরং বেড়ে যায়।৫। ভুল বুঝতে পেরে immediately তওবা করা উচিৎ আর আল্লাহ'র কাছে ভালো আশা রাখা উচিৎ।সূরা ক্বালামের সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর বাংলা অনুবাদ নীচে দেয়া হল। তাফসীর পড়ে দেখার অনুরোধ থাকল। "আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে, এবং ইন শা আল্লাহ বলল না। অতঃপর আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে বাগানে এক বিপদ এসে পতিত হলো। যখন তারা নিদ্রিত ছিল। ফলে সকাল পর্যন্ত হয়ে গেল ছিন্নবিচ্ছিন্ন তৃণসম। সকালে তারা একে অপরকে ডেকে বলল, তোমরা যদি ফল আহরণ করতে চাও, তবে সকাল সকাল ক্ষেতে চল। অতঃপর তারা চলল ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে, আজ যেন কোন মিসকীন ব্যক্তি তোমাদের কাছে বাগানে প্রবেশ করতে না পারে। তারা সকালে লাফিয়ে লাফিয়ে সজোরে রওয়ানা হল। অতঃপর যখন তারা বাগান দেখল, তখন বললঃ আমরা তো পথ ভূলে গেছি। বরং আমরা তো কপালপোড়া, তাদের উত্তম ব্যক্তি বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি? এখনও তোমরা আল্লাহ তা’আলার পবিত্রতা বর্ণনা করছো না কেন? তারা বললঃ আমরা আমাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, নিশ্চিতই আমরা সীমালংঘনকারী ছিলাম। অতঃপর তারা একে অপরকে ভৎর্সনা করতে লাগল। তারা বললঃ হায়! দুর্ভোগ আমাদের আমরা ছিলাম সীমাতিক্রমকারী। সম্ভবতঃ আমাদের পালনকর্তা পরিবর্তে এর চাইতে উত্তম বাগান আমাদেরকে দিবেন। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে আশাবাদী। শাস্তি এভাবেই আসে এবং পরকালের শাস্তি আরও গুরুতর; যদি তারা জানত!" [সূরা ক্বালাম, ৬৮ঃ ১৭-৩৩ ]#কুরআনের_গল্পলেখক :মোঃ মেহেদী হাসানশিক্ষার্থী :আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

Thursday, October 26, 2023

অধিকাংশ মানুষ গীবত নামক গুনাহর দ্বারা আক্রান্ত

অধিকাংশ মানুষ গীবত নামক গুনাহর দ্বারা আক্রান্ত

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...


 


ছোট্ট একটা গুনাহ্ যা আমরা সবাই করে থাকি অজান্তে অথবা জেনে শুনে। ছোট্ট এই গুনাহর জন্য যে শাস্তির কথা বর্ণনা আছে কোরআনে ও হাদিসে তা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর । গুনাহ্টির নাম হচ্ছে গীবত।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক গীবত কী? গীবত শব্দের আভিধানিক অর্থ পরনিন্দা করা , কুৎসা রটানো, পেছনে সমালোচনা করা ,পরচর্চা করা,দোষারোপ করা, কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা। ইসলামী শরীয়তে গীবত হারাম ও কবিরা গুনাহ্। গীবত হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত অবশ্যই পূরণ হতে হবে। ১) প্রথম শর্ত হচ্ছে গীবতকে অবশ্যই সত্য বাক্য হতে হবে। ২) দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বলা। ৩) তৃতীয় শর্ত হচ্ছে এমন কোন কথা ওই ব্যক্তির উপস্থিতিতে বললে সে কষ্ট পাবে।


গীবত সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে কি বলা হয়েছে এবং গীবতকারীর কি কি শাস্তির বিধান রয়েছে সে সম্পর্কে এবার জেনে নেওয়া যাক। সহীহ মুসলিম থেকে বর্ণিত একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন, 'তোমরা কি জানো গীবত কি?' সাহাবায়ে একরাম বললেন,‌ 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন ।' রাসূল বললেন, 'তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বললে, ওই কথাটি সে যদি জানে তার কষ্ট লাগবে, সে চায়না যে তার অনুপস্থিতিতে এই কথাটা কেউ বলুক।' সাহাবীরা প্রশ্ন করলেন, 'ইয়া রাসূল আল্লাহ আমি যেটা বলছি সেটা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে তাহলে কি গীবত হবে?' রাসূল বললেন, 'যদি তুমি যে কথা বলছো সেটা যদি সত্য সত্যই তোমার ভাইয়ের ভিতরে থাকে এবং তোমার কথা যদি শতভাগ সত্য হয় তাহলেও গীবত হবে।'

আপনি হালাল টাকা দিয়ে এক বোতল মদ কিনে খেয়েছেন।আপনার কবিরা গুনাহ হবে আপনি যেই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে মাফ চাইবেন,তওবা করবেন,কান্নাকাটি করবেন আল্লাহ তখনই আপনাকে মাফ করে দিবেন । কিন্তু গীবতের ক্ষেত্রে গুনাহ্ ষোলআনা মাফ আল্লাহ করবেন না,যদি না ওই ব্যক্তির কাছে আপনি মাফ চান। গীবতের যেসব শাস্তির কথা কোরআন হাদিসে বর্ণিত আছে সেগুলোর কিছু কিছু আমরা আলোচনা করব। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, ' যারা অগ্র-পশ্চাতে অন্যের দোষ বলে বেড়ায় তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংসের দুঃসংবাদ।


কোরআনে বর্ণিত আছে, ' দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করবে।... অবশ্যই তারা হুতামাতে (জাহান্নামে) নিক্ষিপ্ত হবে। তুমি কি জানো হুতামা কী? তা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি যা হৃদয়কে গ্রাস করবে,নিশ্চয়ই বেষ্টন করে রাখবে দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।' (সূরা হুমাজা– ১০৪,আয়াত ১-৯)
আবার মহান আল্লাহ তা'য়ালা সূরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, 'হে ঈমানদারগণ !তোমরা অনুমান থেকে দূরে থাকো। কেননা অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপের কাজ। তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না এবং একে অপরের পশ্চাতে গীবত করো না।'

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ' রাসূলে কারীম বলেছেন, দুনিয়াতে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে অর্থাৎ গীবত করবে কেয়ামতের দিন গীবতকারী পচা মাংস ভক্ষণ করতে বাধ্য করা হবে। অতঃপর সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিৎকার করতে করতে তা ভক্ষণ করবে।'
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, একদা রাসূল কে সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ' হে আল্লাহর রাসূল! গিবত কি যেনার চেয়েও মারাত্মক? জবাবে তিনি বললেন, ' হ্যাঁ। কারণ, কোন ব্যক্তি যেনার পর তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। কিন্তু গীবতকারীকে যার গীবত করা হয়েছে, তিনি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না।
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা থেকে বর্ণিত , " মহানবী বলেছেন, যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হল, তখন আমাকে তামার নখবিশিষ্ট একদল লোকের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হল। তারা তাদের নখগুলো দিয়ে স্বীয় মুখমন্ডলে ও বক্ষদেশ আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল ! এরা কারা? জিবরাঈল (আ.) বললেন , এরা দুনিয়াতে মানুষের গোশত ভক্ষণ করতো এবং তাদের মান-সম্মান নষ্ট করতো অর্থাৎ মানুষের গীবত ও চোগলখোরী করতো।" (আবু দাউদ)

গীবতকারীদের জন্য যে ভয়ংকর শাস্তি সে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানলাম। এখন কিভাবে এই গীবত থেকে বেঁচে থাকা যায় সে সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব। যখন কেউ আপনার সঙ্গে বসে গীবত করে, তখন তাকে থামতে বলুন , আল্লাহর হুকুমের কথা স্মরণ করিয়ে দিন ও গীবতের এসকল ভয়ানক শাস্তি সম্পর্কে অবগত করে সাবধান করুন । আর তাতে যদি কাজ না হয় তাহলে সেখান থেকে সরে আসুন। মহানবী বলেছেন , 'পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।' (বুখারী ও মুসলিম)

আমরা যারা নিজের অজান্তেই বা জেনেশুনে গীবত করেছি , গীবতের গুনাহ্ থেকে বাঁচার জন্য যে পন্থা হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে তা হল , 'গীবতের কাফফারা হল, তুমি যার গীবত করছো করেছ, তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে । তুমি এভাবে বলবে , ' হে আল্লাহ তুমি আমার ও তার গুনাহ্ মাফ করে দাও।' (বায়হাকি)
গীবত এক মুসলমান ভাইয়ের সাথে অন্য মুসলমান ভাইয়ের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে, দ্বন্দ্ব তৈরি করে। সমাজে গীবত একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।সবাইকে পরিপূর্ণভাবে ইসলামের বিধান জেনে এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে একযোগে কাজ করা উচিত।



লেখক:
মোঃ রাগীব হাসান মুন্না।
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ফোন নম্বর : 01968387205
ই-মেইল: ragibmunna123@gmail.com
সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

Wednesday, October 25, 2023

দুশ্চিন্তা, হতাশা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে ইসলামীক সমাধান

দুশ্চিন্তা, হতাশা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে ইসলামীক সমাধান

সত্যের সন্ধানে বলিষ্ঠ, সত্য প্রকাশে নির্ভীক...

ইসলাম

নানাবিধ দুশ্চিন্তা ও হতাশার কারণে মানুষের মাঝে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।কেউ কেউ সমাধান হিসেবে বেছে নেয় আত্মহত্যা কে আবার কেউ জীবনের স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়ে ফেলে। বিশ্বাস অবিশ্বাস থেকে অশান্তি আর সেখান থেকে জন্ম নেয় বিভিন্ন কৃত্রিম সংকট ও সমস্যা। কেউ কেউ তা মোকাবেলা করতে পারে কেউ কেউ পারে না। সহজ সমাধান খুঁজতে গিয়ে কেউ পথ হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে আর মুমিনগণ মাথা অবনত করে মহান আল্লাহ্ দরবারে। মুসলিম হিসাবে আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ নেই যার চিকিৎসা আল্লাহতায়ালা দেননি। মানসিক চাপসহ নানাবিধ রোগবালাই থেকে উত্তরণে ইসলামি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর।
অহেতুক দুশ্চিন্তা অনেকটা চক্রের মতো। যত দূর করতে চাইবেন, তত আপনাকে জেঁকে ধরবে। কথায় আছে, ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’ মস্তিষ্ক যত অলস বসে থাকে, তত মাথায় জমা হয় অহেতুক চিন্তা। 
তাই নিজেকে ব্যাস্ত রাখুন, আপনার ভালো লাগে এমন ভালো কাজের সাথে নিজেকে যুক্ত করুন। জীবনে পাওয়া না পাওয়ার বেদনায় হতাশ হওয়া কিংবা মানসিক চাপ অনুভব করা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিপদ-আপদ, চাপ কিংবা না পাওয়ার বেদনা যত বেশিই হোক না কেন কোনো অবস্থায়ই হতাশ হওয়া ঈমানদারের কাজ নয়। বরং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাই সুস্থ থাকার উপায় এবং বুদ্ধিমানের কাজ।
সাদাত হোসাইনের একটা লাইন আছে, 'যা আমার নয় তা পেয়ে গেলেও আমার নয় আর যা আমার তা না পেলেও আমার কখনো মুক্তিই বন্দিত আবার কখনো কখনো বন্দিত্বই মুক্তি' মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এটা একটা চমৎকার যুক্তি। যুবক-যুবতীদের মধ্যে প্রেম সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা স্বামী-স্ত্রী মধ্যে সাংসারিক জটিলতা থেকে একজন অন্য জনকে কে ছেড়ে যাওয়া কিংবা কোনো কিছু না পাওয়া থেকে মানুষ হতাশ হয়ে পড়েন।
মানসিক অশান্তি থেকে মুক্ত থাকতে মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের বিকল্প নেই। কেননা তিনিই বলেছেন, ‘যে মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সূরা তালাক : আয়াত ৩)।
আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা ও পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস স্থাপনে তার মনোবল বেড়ে যায়। ফলে সে অন্তরে খুঁজে পায় এক অনাবিল সুখ ও পরিতুষ্টি।
সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়ায় সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করতে জানে তার জন্য কোনো চিন্তা নেই। হাদিসে এসেছে-রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, আমি সেরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে।’ (বুখারি)।
মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত দোয়া করাও উচিত। কারণ হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে। দোয়া বা প্রার্থনা করলে, কোনো কিছু চাইলে মহান আল্লাহ খুশি হন। না করলে বরং অসন্তুষ্ট হন। তবে দোয়ার ক্ষেত্রে হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।



 রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এমন একটি দোয়া সম্পর্কে জানি, কোনো বিপদে পড়া লোক যদি তা পড়ে তবে আল্লাহ সে বিপদ দূর করে দেন। সেটি হচ্ছে- আমার ভাই (হজরত) ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়া। তাহলো, ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বালিমিন।
অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিঃসন্দেহে আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত।’ -তিরমিজি


যে কোনো বিপদ-মুসিবত, পেরেশানির সময় নামাজের মাধ্যমেই প্রকৃত প্রশান্তি লাভ কর যায়। কেননা নামাজের মাধ্যমেই বান্দা মহান আল্লাহর সাহায্য লাভ করে থাকেন। তাই মানসিক প্রশান্তি লাভে নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহতায়ালা বলেন-‘তোমরা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আমার নিকটে সাহায্য প্রার্থনা কর। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সেসব বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব। (সূরা বাকারা : আয়াত ৪৫)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজ আদায় করতেন।’ (আবু দাউদ)। সাহাবায়ে কেরামও এ আমলে অভ্যস্ত ছিলেন। ছোট থেকে ছোট কোনো বিষয়ের জন্যও তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।


মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে বেশি বেশি ইসতেগফারের বিকল্প নেই। যেসব কারণে মানুষ চাপে পড়ে, তন্মধ্যে অন্যায়-অপরাধ বেশি করা, অর্থ কষ্টে থাকা, সন্তানসন্ততি না থাকা, জীবিকার অপ্রতুলতা,বেকারত্ব সমস্যা, সামাজিক সমস্যা,পারিবারিক সমস্যা ইত্যাদি। এ সবের সমাধানে কুরআনের প্রজ্ঞান হলো ইসতেগফার করা। এ ইসতেগফারেই মানুষ উল্লিখিত সমস্যা থেকে সামাধন খুঁজে পায় বলে ঘোষণা করেছেন মহান আল্লাহ।
কুরআনে এসেছে-‘অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সূরা নুহ : আয়াত ১০-১২)।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে, আল্লাহতায়ালা তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন। তার সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। -সুনানে আবু দাউদ

কুরআন তেলাওয়াত মানুষের অন্তরকে প্রফুল্ল করে তোলে হৃদয়কে করে প্রশান্ত। কেননা কুরআন তেলাওয়াত মুমিনের প্রফুল্লতার অনন্য উৎস। শুধু তাই নয়, কুরআন তেলাওয়াতে মুমিনের মনের প্রফুল্লতা ও মানসিক প্রশান্তি বাড়তে থাকে।
কুরআনের আলোয় আলোকিত মানুষ সব দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে মুক্ত থাকে। আল্লাহ বলেন, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, আল্লাহ তাদের পবিত্র কুরআন দ্বারা শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে তাদেরকে কুফরির অন্ধকার থেকে বের করে ইমানের আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।’ (সূরা মায়িদা : আয়াত ১৫-১৬)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) হতাশা দুশ্চিন্তা দুঃখ-কষ্ট মানসিক চাপ থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে কীভাবে দোয়া করব তা বলে দিয়েছেন।
হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি ওয়া দ্বালাইদ-দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’ হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও লোকজনের প্রাধান্য থেকে আপনার কাছে পানাহ চাচ্ছি। -সহিহ বোখারি: ২৮৯৩


দরুদ পড়লে আল্লাহতায়ালা বান্দার প্রতি রহমত নাজিল করেন। এ রহমত মানুষকে যাবতীয় মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখে। এটি আত্মপ্রশান্তি লাভের সহজ উপায়ও বটে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পড়া এমন একটি ইবাদত যে, আল্লাহতায়ালা তা কবুল করে নেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বর্ণনা করেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার ওপর অনেক বেশি দরুদ পড়তে চাই। আপনি বলে দিন আমি দরুদে কতটুকু সময় দেব? তিনি বললেন, ‘তুমি যতটুকু চাও! আমি বললাম, এক চতুর্থাংশ সময়?
তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও! যদি আরও বাড়াও তা তোমার জন্য ভালো। আমি বললাম, অর্ধেক সময়? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু সময় পড়তে পার, যদি এর চেয়ে আরও সময় বাড়াও তোমার জন্য ভালো। আমি বললাম, তাহলে সময়ের দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, তুমি যতটুকু চাও, যদি আরও বাড়াও তোমার জন্য ভালো। আমি বললাম, সম্পূর্ণ সময় আমি আপনার ওপর দরুদ পড়ায় কাটিয়ে দেব। তখন তিনি বললেন, তাহলে এখন থেকে তোমার পেরেশানি দূর হওয়ার জন্য দরুদই যথেষ্ট এবং তোমার পাপের কাফফারার জন্য দরুদই যথেষ্ট।’ (তিরমিজি)।
 সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ সবকিছুর ক্ষেত্রেই মুমিন তাকদিরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে। আর দুঃখ-হতাশা, অভাব-অনটন, বিপদ-আপদে তাকদিরের ওপর বিশ্বাস থাকলে কোনো মানুষই মানসিক চাপে ভোগে না। তাই মানসিক চাপের সময় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাকদিরের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় রয়েছে মানসিক প্রশান্তি। আল্লাহ বলেন,আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দিলে তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা মোচন করতে পারে না। আর আল্লাহ যদি তোমার মঙ্গল চান, তাহলে তার অনুগ্রহ পরিবর্তন করারও কেউ নেই।-সুরা ইউনুস : ১০৭।

মৃত্যুর স্মরণ মানসিক চাপকে একেবারেই মিটিয়ে দেয়। পরকালের কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ রাখলে দুনিয়ায় মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে মানুষের দ্বারা কোনো অন্যায় কাজ করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। তখনই মানুষ থাকে মানসিক চাপমুক্ত। কারণ পরকালের তুলনায় দুনিয়ার বিপদ-আপদ একেবারেই নগণ্য। আল্লাহ বলেন-
যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে। (সূরা নাযিআত : আয়াত ৪৬)।

অনেক ক্ষেত্রেই হতাশা থেকে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। তাই দুনিয়ার জীবনে বিপদ-আপদে হতাশ না হওয়া ইমানদারের কাজ। যেকোনো সময়, যেকোনো ধরনের বিপদ-আপদ আসতে পারে এ মানসিকতা সব সময় পোষণ করা। ফলে তা মানুষকে বিপদে হতাশা থেকে রক্ষা করে মানসিক চাপমুক্ত রাখে। কোরআনে কারিমে এসব বিপদ-আপদ দিয়ে বান্দাকে পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব সামান্য ভয় ও ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের কিছুটা ক্ষতি দিয়ে; আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও- যাদের ওপর কোনো বিপদ এলে বলে, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন’- নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর আর অবশ্যই আমরা তার কাছেই ফিরে যাব।’ -সুরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬

আজকাল মানসিক চাপে থাকেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুর্গম। কম-বেশি সবাই মানসিক চাপ ও উদ্বেগে থাকে। মনে হয় তা যেন এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই উল্লিখিত আমলগুলো অনুসরণ ও অনুকরণের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।
যারা ইমান আনে ও আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্ত হয়। জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণেই শুধু হৃদয় প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ, আয়াত ২৮)
মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের কে বেশি বেশি হাদিস কোরআন পড়তে হবে এবং আমাদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বেইর করতে হবে। আল্লাহ্ উপর ভরসা রাখতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে যা কিছু হয় আমাদের ভালোর জন্যই হচ্ছে হয়তো জ্ঞান স্বল্পতার জন্য আমরা তা বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের যায়গা থেকে যা করতে পারি তা হলো চেষ্টা ফলাফল দেওয়ার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ্ তায়ালা।চেষ্টা করে যদি আমরা সফল হতে না পারি তাহলে বুঝতে হবে এটা আমার জন্য না কিংবা আমার চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রয়েছে।তবে আমার এই চেষ্টার উত্তম প্রতিদান নিশ্চয়ই একদিন পাবো।